১৩ বার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার পাওয়া বাঙালি অভিনেত্রীকে স্বামী ও সন্তানের সামনেই গণধ;র্ষ;ণ

বাংলাদেশী (Bangladeesh) অভিনেত্রী পরীমণি প্রসঙ্গে রীতিমতো উত্তপ্ত হয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। একসময় যৌ;ন হেনস্থা, খুন এবং ;ধ;র্ষণের চেষ্টার আশঙ্কায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহায্য চেয়েছিলেন তিনি।

সেই থেকেই তিনি প্রচারের আলোয় উঠে আসেন। এরপর থেকেই এই ঢালিউড (Dhallywood) সুন্দরী প্রসঙ্গে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসতে থাকে।

তবে সব কিছুকেই ছাপিয়ে গেল ‌বাংলাদেশের অপর আরেক অভিনেত্রী শবনমের (Shabnam) ;ধ;র্ষণের (Rape Case) খবর। যে খবরে রীতিমতো শিহরিত নেটিজেনরা।

বাংলাদেশী অভিনেত্রী শবনম ওরফে ঝর্ণা বসাকের বাড়িতে ঢুকে তাকে ধ;র্ষ;ণ করে ৫ দু;ষ্কৃতী। তার স্বামী এবং সন্তানদের সামনেই তার উপর জঘন্য অ;ত্যাচার চালায় দু;ষ্কৃতীরা।

এতদিন পরে সেই বীভৎস ঘটনার কথা আরও একবার সোশ্যাল সাইটে তুলে ধরলেন জনৈক নেটিজেন। তখন কর্মসূত্রে পাকিস্তানে থাকতেন এই অভিনেত্রী।

এই ঘটনার পরেই তিনি পাকিস্তান ছেড়ে বাংলাদেশে চলে আসেন। নেটিজেনের দাবি, “উপমহাদেশের ইতিহাসে সব থেকে হাইপ্রোফাইল ;ধ;র্ষণের শিকার হয়েছিলেন বাংলাদেশি বাঙালি ঝর্ণা।”

১৯৪২ সালে জন্মগ্রহণ করেছিলেন ঝর্ণা ওরফে শবনম। ১৯৬০ সাল থেকে শুরু করে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত তিনি অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

শুধু বাংলাদেশ নয়, এই অভিনেত্রী পাকিস্তানেরও নামকরা অভিনেত্রী ছিলেন। দুই দশক ধরে তিনি পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে রীতিমতো রাজত্ব করেছিলেন।

অভিনয়ের দরুণ মোট ১৩ বার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছিলেন শবনম। পাকিস্তানেই সবথেকে বেশি কাজ করতেন তিনি। তবে সেই পাকিস্তানের মাটিতেই চরম অ;ত্যাচারের শিকার হতে হয়েছিল তাকে।

বাংলাদেশে ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের পর শবনম পাকিস্তান ছেড়ে আবার বাংলাদেশে ফিরতে চেয়েছিলেন। তবে দেশে ফেরার জন্য ভিসা পাওয়ার জন্য তাকে ২ বছর অপেক্ষা করতে হয়।

কারণ হিসেবে জানা যায়, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনৈক ব্যক্তি পাকিস্তানের তৎকালীন সরকারের কাছে শবনমকে দেশে ফেরার অনুমোদন না দেওয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন।

তার দাবি ছিল, শবনমকে নিয়ে পাকিস্তানি চলচ্চিত্র বানানোর জন্য মোটা অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করা হয়েছে। শবনম যদি পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে চলে যান তাহলে লোকসানের সম্মুখীন হতে হবে।

১৯৭৮ সালের ১৩ই মার্চ, শবনমের জীবনের সবথেকে ভয়াবহ ছিল সেই রাত। লাহোরের গুলবার্গে শবনমের বাড়িতে রীতিমতো অ;স্ত্রশ;স্ত্র নিয়ে ঢুকে পড়ে ৫ দু;ষ্কৃতী।

প্রথমেই অভিনেত্রীর বাড়িতে লুটপাট চালানো হয়। এক লক্ষ টাকার নগদ এবং গয়না ডাকাতি করে নেয় দু;ষ্কৃতীরা। তারপর শবনমের স্বামী রবিন ঘোষ এবং তার একমাত্র সন্তানকে বেঁধে রেখে সারা রাত ধরে শবনমের উপর চলে অ;ত্যাচার।

শুধু তাই নয়, শবনম যাতে এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আইন আদালতের দ্বারস্থ না হন তার জন্যেও তার উপর চাপ সৃষ্টি করা হতে থাকে।

তবে দমে যাননি অভিনেত্রী। তার সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছিল তার পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তানের চলচ্চিত্র জগতের প্রত্যেক কলাকুশলী তার পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন।

তৎকালীন পাঞ্জাবের মুখ্য সচিব এফকে বানদিয়ালের ভাগ্নে ফারুক বানদিয়াল এবং তার চার বন্ধুর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়।

বিভিন্ন মহলের চাপের মুখে পড়ে একনায়ক জেনারেল জিয়াউল হক সরকার এই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইবুনাল গঠন করতে বাধ্য হয়। বিচারের ওই পাঁচ আসামিকে মৃ;ত্যুদ;ণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

তার পরেও অবশ্য এই মামলার জল বহুদূর গড়ায়। শবনমের ঘটনার সঙ্গে রাজনীতি জড়িত থাকায় বিচার পাওয়ার জন্য অনেক কাঠ-খড় পোড়াতে হয়েছিল শবনমকে।

একনায়ক জেনারেল জিয়াউল হক পরবর্তীতে সব আসামির মৃ;ত্যুদ;ণ্ড মুকুব করে দিয়ে এই মামলাকে শুধুই এক ডাকাতির মামলা বলে উল্লেখ করেছিলেন!

পরে সমাজের বিভিন্ন স্তর থেকে অভিযোগ আসতে থাকায় ৫ জনকে মৃ;ত্যুদ;ণ্ড এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অপরাধে বাকি ২ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয় আদালত।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *