ফাঁস হয়ে গেল পাত্রের আসল পরিচয়, বিয়ের পিঁড়িতে ঋতাভরী চক্রবর্তী

দীর্ঘ সময় ধরে অসুস্থ ছিলেন ঋতাভরী। গত মার্চ মাসে অস্ত্রোপচার হয় তাঁর। আপাতত তিনি সুস্থ এবং পুরোদমে কাজ করছেন। ২ বার অস্ত্রোপচারও হয়েছে তার শরীরে। শরীরের অসুস্থতা তার মনেও প্রভাব ফেলেছিল। মানসিক অবসাদ তাকে ঘিরে ধরে। আর ঠিক সেই মুহুর্তেই তার পাশে এসে দাঁড়ান তার ডাক্তার বন্ধু। অভিনেত্রীর দুঃসময়ে তার পাশে থেকে কার্যত সেই ডাক্তার বন্ধুই ঋতাভরীর আজীবনের সঙ্গী হয়ে উঠেছেন।

ঋতাভরী জানিয়েছেন, “আমাকে ঝলমলে সুন্দর তো সবাই দ্যাখে, কিন্তু সবচেয়ে অন্ধকার এবং খারাপ দিনগুলোয় যারা আমার পাশে থেকেছে তাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ, যাদের মধ্যে একজন আমার ‘ডাক্তার বন্ধু’। যে শুধুই বাইরের সৌন্দর্যটাকে দেখেনি, বরং সেই মেয়েটাকে ভালবেসে ওষুধ খাইয়ে দিয়েছে, যে প্যানিক অ্যাটাকের কারণে মাটিতে বসে কাঁদছে, কাউকে চিনতে পারছে না”

এই ডাক্তার বন্ধুই ঋতাভরীর মন ভালো রাখার দায়ভার নিয়েছেন আজীবনের জন্য। তার সঙ্গেই আগামী দিনে গাঁটছড়া বাঁধার পরিকল্পনা করেছেন ঋতাভরী। অভিনেত্রীর কথায়, “ওই পরিস্থিতিতে আমার পাশে কাউকে খুব দরকার ছিল। আমার আগের বয়ফ্রেন্ড মুম্বইয়ে থাকত। ও পাশে থাকলেও শারীরিক ভাবে উপস্থিত ছিল না, যেটা সে সময়ে আমার খুব প্রয়োজন ছিল”।

মাঝেমধ্যেই ঋতাভরীর বিয়ে নিয়ে নানা রটনা রটে নেট মাধ্যমে। অভিনেত্রী জানিয়েছেন, এবার সত্যি সত্যিই সাত পাকে বাঁধা পড়তে চান তিনি। তবে বিয়ের জন্য তার নির্দিষ্ট কিছু শর্ত আছে। ঋতাভরীর সাফ কথা, “যাকে বিয়ে করব, বিয়ের আগে তার সঙ্গে কিছু দিন থাকতে চাই। কিন্তু দুই বাঙালি পরিবার ব্যাপারটাকে কী ভাবে নেবে জানি না। তাই ঠিক হল, এ বছর ডিসেম্বরে এনগেজমেন্ট করে আমরা একসঙ্গে থাকব আমার বাড়িতে। কোভিড পরিস্থিতি ঠিক হলে পরের বছর বা তার পরের বছর জাঁকজমক করে বিয়ে করব।”

এনগেজমেন্টটা কাছের মানুষদের উপস্থিতিতেই সারতে চান ঋতাভরী এবং তার সঙ্গী। এনগেজমেন্টের পর বিয়েতেও দেরি করতে চাননা অভিনেত্রী। অভিনেত্রী জানালেন, “আমি সত্যিই জীবনের পরের পদক্ষেপটা খুব তাড়াতাড়ি নিতে চাই। ওর পরিবারে সকলে ডাক্তার। আশা করব, আমার কাজের ধারার সঙ্গেও যেন মানিয়ে নিতে পারে”।

এ বছরের শেষে এনগেজমেন্ট এবং আগামী বছরের শেষ দিকে হয়তো বিয়ে। ডাক্তার-বন্ধু তথাগত চট্টোপাধ্যায়কে বিয়ে করতে চলেছেন নায়িকা। ব্যবসায়ী পরিবারের ছেলে তথাগত পেশায় মনোবিদ। তাঁদের আলাপ অবশ্য খুব বেশি দিনের নয়, মাস ছয়েকের। দু’জনেই সমাজসেবার সঙ্গে দীর্ঘ দিন ধরে যুক্ত। সোশ্যাল ওয়ার্ক করতে গিয়েই তাঁদের আলাপ এবং ধীরে ধীরে সম্পর্ক গভীরতা পায়।

যদিও বিয়ে নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়াটা ঋতাভরীর পক্ষে খুব একটা সহজ ছিল না। তার কথায়, “বিয়ে ব্যাপারটাকেই আমি ভয় পাই, যেহেতু একটা ভাঙা পরিবার থেকে এসেছি। আশপাশে বহু সম্পর্ক ভেঙে যেতে দেখেছি। বিয়ের পর কেউ যদি বলে এটা কোরো না, বোল্ড ছবি দিয়ো না… সে সব মেনে নিতে পারব না। সত্যি বলতে, এর আগে কাউকে দেখে মনে হয়নি, তার সঙ্গে সংসার করতে পারব। তবে আমার কিছু বলার আগেই হঠাৎ একদিন ও-ই বলল, ‘তুমি পাশে থাকলে তোমার প্রতি কেমন যেন বৌ বৌ ফিলিং আসে।” এরপর আর না করেননি ঋতাভরী।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *